দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামী, টঙ্ক আন্দোলনের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্টাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমডের মণি সিংহের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপি নানা আয়োজনে এ জন্মবার্ষিকী পালিত হয়।
এ উপলক্ষে কমরেড মণি সিংহ মেলা উদযাপন কমিটির আয়োজনে মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কমরেড ডাঃ দিবালোক সিংহ। পরবর্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কমরেড মনিসিংহের প্রতিকৃতিতে পূষ্পার্ঘ্য অর্পন শেষে মনি সিংহ মিলনায়তনে মহান নেতার কর্ম ও ব্যক্তি জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়
আলোচনা সভায়, কমরেড ডাঃ দিবালোক সিংহের সভাপতিত্বে, সিপিবি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুপন কুমার সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, মেলা উদযাপন কমিটির যুগ্ন-আহবায়ক অজয় সাহা, সিপিবি‘র সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, সিপিবি উপজেলা কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, সদস্য শামছুল আলম খান, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সফিউল আলম স্বপন, জাহাঙ্গীর আলম রিপন, আদিবাসী ফোরামের নেতা নিরন্তর বনোয়ারী, নারীনেত্রী তাসলিমা বেগম প্রমুখ। আলোচনা শেষে শিল্পকলা একাডেমি ও উদীচী এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
বক্তারা বলেন, ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার মেটিয়াবুরুজে কেশরাম কটন মিলে শ্রমিকদের ১৩ দিন ব্যাপী ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিয়ে দাবি আদায়ের মাধ্যমে মণি সিংহ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে প্রথম সফলতা অর্জন করেন। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সুসং-দুর্গাপুরে আসেন। এখানে অবস্থানকালে এখানকার কৃষকদের সংগঠিত করে টংক প্রথার বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে নেত্রকোণায় অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত কিষাণ সভার মহাসম্মেলনের তিনি অন্যতম সংগঠক ও অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সারাজীবন মেহনতি মানুষের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী রাজনীতি করে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের মুৃক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে এই মহান নেতার জীবনী তুলে ধরতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।
কমরেড মণিসিংহ ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সততা, সাহস, আত্মত্যাগ, মানবপ্রেম, গরীব-দুঃখী শোষিত-নির্যাতিত মেহনতি মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, গভীর দেশপ্রেম এর মূর্ত প্রতীক হয়ে থাকবেন। তিনি আ-মৃত্যু গরিব মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
Leave a Reply