মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

কালোত্তীর্ণ কমরেড ফরহাদ

Reporter Name
  • আপডেট : সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৫৪ পঠিত

সোমসুল আলম সজ্জন : ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তান অভিমুখে ফিরিয়ে নেয়া দেশকে সামরিক স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার করাল গ্রাস হতে মুক্ত করার সংগ্রামে লিপ্ত হন। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা তথা সব শ্রেণিপেশার মানুষকে রাজনৈতিক সংগ্রামে একসূত্রে গ্রথিত করে জনগণকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কমরেড ফরহাদের ছিল উদ্যোগী ও সক্রিয় ভূমিকা।

ইতিহাসে নেতা হিসেবে তিনিই স্মরণীয় যিনি তার কালকে অতিক্রম করে ভবিষ্যৎ দেখতে পান এবং জনগণকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সেই অভিমুখে ইতিহাসের গতিপথকে পরিবর্তনের সামর্থ্য রাখেন। আমাদের ইতিহাসে তেমনই সময়ের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করা এক কালোত্তীর্ণ নেতা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ।

৯ অক্টোবর, একাধারে ল্যাটিন আমেরিকার বিপ্লবী নেতা কমরেড চে গুয়েভারা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিপ্লবী পুরোধা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের মৃত্যুবার্ষিকী।

বিশ্বের একপ্রান্ত দক্ষিণ আমেরিকায় ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিওতে জন্মগ্রহণ করেন আর্নেস্তো গুয়েভারা দে লা সের্না। যিনি পরবর্তীকালে বঞ্চিত মানুষের ‘চে’ বা ‘প্রিয়’ অথবা ‘বন্ধু’ তথা বিপ্লবী চে গুয়েভারা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হন।

তারই প্রায় এক দশক পর বিশ্বের আরেক প্রান্ত, ব্রিটিশশাসিত তৎকালীন ভারতবর্ষের অধীন পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্তর্গত পঞ্চগড়ের বোদায় ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ ফরহাদ। পরবর্তী সময়ে যিনি অভিহিত হন ‘বাংলার লেনিন’ হিসেবে।

দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়ার শহর লা হিগুয়েরাতে চে গুয়েভারাকে ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বন্দি অবস্থায় সেনাবাহিনী হত্যা করে।

আর কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) মস্কো শহরে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

চে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকার মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদও তেমনি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের বিশ্ববীক্ষায় এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তির স্বপ্নকে মিলাতে চেয়েছিলেন।

১৯৫১ সালে চে মোটরসাইকেলে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণ শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, দক্ষিণ আমেরিকা আলাদা দেশের সমষ্টি নয়, বরং এক অভিন্ন অস্তিত্ব যার প্রয়োজন মহাদেশব্যাপী স্বাধীনতার জাগরণ ও স্বাধীনতার পরিকল্পনা। পরবর্তী সময়ে তার নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে এই একক, সীমানাবিহীন আমেরিকার চেতনা বার বার ফিরে আসে।

অপরদিকে একই সময়ে চল্লিশের দশকে বিশ্ব রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া ভারতের স্বাধীনতা, চীনের বিপ্লব এবং ১৯৪৮ সালের দিকে দিনাজপুরের তেভাগা আন্দোলন মোহাম্মদ ফরহাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরিতে প্রভাব ফেলে। সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে কিশোর বয়সে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি ১৯৫১ সালে দিনাজপুরের কমিউনিস্ট ও প্রখ্যাত কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ, কম্পরাম সিং, ইন্দ্রমোহন, মির্জা আব্দুস সামাদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দের সংস্পর্শে আসেন।

এদিকে ১৯৫৩ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারস ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় গ্রাজুয়েশন শেষে চে আবারও ভ্রমণে বের হন। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় মার্কিন আগ্রাসন তাকে সশস্র পন্থায় বিপ্লবে আগ্রহী করে তোলে। ১৯৫৫ সালের জুনে মেক্সিকোতেই কিউবার বিপ্লবী আন্দোলনের নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়।

অপরদিকে ১৯৫২ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় দিনাজপুর জেলা স্কুলের ছাত্র মোহাম্মদ ফরহাদ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুক্ত হন ছাত্র সমাজের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন’-এর সঙ্গে । ১৯৫৩-৫৪ সালে বোদা-পঞ্চগড় প্রভৃতি এলাকায় তিনি প্রথম ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলেন। মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৫৪ সালের ১০ জুন দিনাজপুর শহরে রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হয়ে বিনাবিচারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।

১৯৫৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মণি সিংহের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে। দিনাজপুর জেলা পার্টি ১৭ বছর বয়সে বিশেষ বিবেচনায় ওই বছরই তাকে পার্টির সদস্যপদ দেয়। ১৯৫৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন।

বিপ্লবের পরিকল্পনায় ক্যাস্ত্রোর বাহিনীর সঙ্গে ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর চে কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কিউবায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ২২ জন ছাড়া তাদের অধিকাংশ সহযোদ্ধাই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি অথবা নিহত হন। বিদ্রোহীদের ছোট্ট একটা অংশ সিয়েররা মস্ত্রা পর্বতমালায় পুনরায় সংঘবদ্ধ হতে পেরেছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর অখণ্ড অংশ হয়ে গিয়েছিলেন।

প্রায় দুই বছর যুদ্ধ শেষে সান্তা ক্লারাতে বাতিস্তা সরকারের শেষ ঘাঁটি জয় করে ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে ফিদেল-চের বাহিনী উত্তর ক্যারিবীয় এলাকার ১ লাখ ১০ হাজার ৮৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা জয় করে।

পেশায় ডাক্তার হওয়ার পরও ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চে কিউবার শিল্প-বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। এসময় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৫ সালে তিনি বিপ্লবের পথে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে মোহাম্মদ ফরহাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে এমএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্র-আন্দোলনের মস্তিষ্ক হিসেবে তিনি ১৯৬২’র শিক্ষা আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ফলে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে কমিউনিস্টদের সম্পৃক্ত হওয়ার পটভূমি তৈরিতেও কমরেড ফরহাদ বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

বৃহত্তর বিপ্লবে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে চে ১৯৬৫ সালে কিউবা ত্যাগ করেন। প্রথমে কঙ্গো-কিনসহাসায় তার বিপ্লব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি বলিভিয়ায় বিপ্লবে অংশ নেন। এখানেই সিআইএ-মদতপুষ্ট বলিভীয় সেনাবাহিনী হত্যা করে বিপ্লবের কিংবদন্তী কমরেড চে গুয়েভারাকে।

নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবীদের অন্যতম চে গুয়েভারার শৈল্পিক মুখচিত্রটি একটি সর্বজনীন বিপ্লবের মুখচ্ছবি হিসেবে বিশ্বপ্রতীকে পরিণত হয়।

আর এই ভূখণ্ডে ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে কমরেড ফরহাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৮ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত গোপন কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসে তিনি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র-আন্দোলন, নারী আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম প্রসারে তার মুখ্য ভূমিকা ছিল।

’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি রাজনীতিকদের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং পরিশেষে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের সম্মিলিত গেরিলা বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখেন কমরেড ফরহাদ। এককথায় ১৯৭১ সালে ৯ মাসের এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে তার অবদান চিরস্মরণীয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশ্যে কাজ শুরু করে। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বরে পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে ৩৫ বছর বয়সী কমরেড ফরহাদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তান অভিমুখে ফিরিয়ে নেয়া দেশকে সামরিক স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার করাল গ্রাস হতে মুক্ত করার সংগ্রামে লিপ্ত হন। ছাত্র-শ্রমিক-জনতা তথা সব শ্রেণিপেশার মানুষকে রাজনৈতিক সংগ্রামে একসূত্রে গ্রথিত করে জনগণকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কমরেড ফরহাদের ছিল উদ্যোগী ও সক্রিয় ভূমিকা।

বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। ১৯৭৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জিয়াউর রহমান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বিনাবিচারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখে। ১৯৭৮ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করলে সরকারের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের বিচারপতিগণ রায় দেন যে, সরকার বেআইনিভাবে তাকে বিনাবিচারে আটক রেখেছে। তিনি মুক্তি লাভ করেন।

১৯৮০ সালের মার্চে নিম্ন বেতনভুক সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন সামরিক সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। ১৯৮১ সালের আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশবলে তিনি মুক্তি পান। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের সামরিক সরকার আবার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ক্যান্টনমেন্ট জেলে অন্ধকার কক্ষে ১৪ দিন আটক রাখে।

স্বৈরাচার এরশাদের শাসনামলে কমরেড ফরহাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটকে একত্রিত করে সংগ্রাম পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অফিসে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মূল কারিগর কমরেড ফরহাদের তৎকালীন রুমটি ছিল স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক শক্তির তীর্থ স্থানের মতো।

৮৬’র নির্বাচনের আগে স্বৈরাচারকে পরাস্ত করার কৌশল হিসেবে তিনি দুই নেত্রীর ১৫০-১৫০ আসনে নির্বাচন করার ফর্মুলা দিয়েছিলেন। ভীত হয়ে এরশাদ অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, কোনো প্রার্থী ৫টির বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল আত্মিক বন্ধনের। ‘২০০০ সালের মধ্যে বিপ্লব সংঘটিত করার’ মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অদম্য স্বপ্ন নিয়েই ১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মস্কোয় তার জীবনাবসান ঘটে।

কমরেড ফরহাদ প্রকৃতই নিবেদিতপ্রাণ আত্মপ্রত্যয়ী এক বিপ্লবীর নাম। শ্রমিক-কৃষক, ক্ষেতমজুর-ভূমিহীন, শিল্পী-বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী-গণমাধ্যমকর্মী, ডাক্তার-প্রকৌশলী, শিক্ষক এমন কোনো পেশাজীবী ছিল না যেখানে তিনি সংগঠন বিস্তৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। কমরেড ফরহাদ কমিউনিস্ট আন্দোলনকে বিকশিত করে কমিউনিস্ট পার্টিকে শুধু রক্ষা নয় বরং ধীরে ধীরে সমাজে পার্টির শক্ত ভিত্তিমূলও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।

করোনাকালে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজকের বাংলাদেশে শোষণ-বৈষম্য, অনাচার, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সর্বগ্রাসী দুর্বৃত্তায়ন, সাম্প্রদায়িকতা আর সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে চিরঞ্জীব কমরেড ফরহাদের আদর্শ ও রাজনীতি আজকের দিনে আরেও বেশি প্রাসঙ্গিক। লেখক: প্রাবন্ধিক ও সাবেক ছাত্রনেতা

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2023 comrademonisingha.com স্বত্বাধীকার - কমরেড মণিসিংহ স্মৃতি পরিষদ দুর্গাপুর।
Design & Developed BY Purbakantho.Com