শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

রিকশায় ফেলে যাওয়া ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চালক

রির্পোটারের নাম / ১৬৫ বার
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

ডেক্স নিউজ: বগুড়া শহরের  সার ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ এর রিক্সায় ফেলে যাওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন রিক্সা চালক লাল মিয়া (৫৫)। ব্যাগ ভর্তি টাকা ফেরত দিয়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওই রিক্সা চালক।শুক্রবার শহরের সাতমাথায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে টাকাগুলো বুঝে নেন ওই ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সার ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দ্বীননাথ প্রসাদের ছেলে। একই এলাকায় তার প্রসাদ অ্যান্ড সন্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সন্তানের লেখাপড়ার স্বার্থে তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরী তলার ভাড়া বাসায় থাকেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবার জন্য শুক্রবার সকালে বাসা থেকে লাল মিয়ার রিকশায় চড়েন।

ব্যবসায়ি রাজিব এর সাথে থাকা একটি ব্যাগে প্রায় ২০ লাখ টাকা ও অন্য ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল। তিনি রিকশা থেকে শহরের সাতমাথায় নেমে অন্য বাসে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর টের পান তার টাকার ব্যাগ রিকশায় ফেলে এসেছেন। তিনি বাস থেকে নেমে টাকা খোয়ানোর বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

ওসি এসএম বদিউজ্জামান এ ব্যাপারে এসআই জহুরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। পুলিশ কর্মকর্তা শহরে গোগাইল রোড এলাকার একটি দোকানের সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। এরপর অন্য চালক ও ব্যবসায়ীকে দিয়ে রিকশাচালক লাল মিয়াকে সনাক্ত করেন এবং তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রিকশা চালক শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়ার মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া সিটে থাকা ব্যাগ দেখে তা খোলেন এবং ভেতরে টাকা দেখতে পান। তখন কাউকে কিছু না বলে ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। তাকে না পেয়ে তিনি শহরের মালগ্রাম এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে টাকার ব্যাগ রেখে রিক্সা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তিতে রিক্সা চালক শহরের খান্দার এলাকায় এসে টাকা হারানোর মাইকিংয়ের শুনতে পান। এক পর্যায়ে সদর থানার এসআই জহুরুল ইসলাম খান্দার গেলে রিকশাচালক লাল মিয়াকে দেখতে পান। লাল মিয়া ব্যাগ ও টাকার বর্ণনা শোনার পর সেটি তার বাড়িতে থাকার কথা জানান।পুলিশ লাল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে টাকার ব্যাগসহ লাল মিয়াকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে থাকা ব্যবসায়ী রাজিব প্রসাদ রিকশাচালক লাল মিয়াকে সনাক্ত করেন। তখন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা টাকাগুলো ব্যবসায়ীকে দেন।

রিকশাচালক লাল মিয়া জানান, তিনি গরীব হলেও পরের অর্থ-সম্পদের প্রতি তার লোভ নেই। ভাড়া রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট দুই ছেলে তার সঙ্গে থাকেন। রিকশায় ফেলে যাওয়া টাকাগুলো তিনি মালিককে ফেরত দিতে পেরে দায়মুক্ত হয়েছেন। ওই ব্যবসায়ী প্রতিদান হিসেবে তাকে নতুন রিকশা ও মোবাইল ফোন কিনে দিতে চাওয়ায় তিনি খুশি হয়েছেন। এখন তাকে আর পরের ভাড়া রিকশা চালাতে হবে না। সংসারের অভাব কিছুটা হলেও দূর হবে।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, আগামী রোববার লাল মিয়াকে একটি নতুন রিকশা ও একটি মোবাইল ফোন উপহার দেয়া হবে। টাকাগুলো ফেরত দিয়ে রিকশাচালক এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 


এ জাতীয় আরো খবর
Developed By ThemesDealer.Com