মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন

‘দাম কমাও জান বাঁচাও’ স্লোগানে মুখর সারাদেশ

রির্পোটারের নাম / ৬৯ বার
আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

একতা প্রতিবেদক : নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, বাসা ভাড়া, শিক্ষা খরচ, ওষুধ খরচ- সবকিছুরই দাম বেড়েছে। প্রক্রিয়া চলছে গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির দাম বাড়ানোর।

করোনায় আয় কমে যাওয়া, কাজ হারানো কয়েক কোটি মানুষের জীবন আরও দুঃসহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র আহ্বানে ‘দাম কমাও জান বাঁচাও’ স্লোগানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় জানা গেল রাজধানীতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। দেশে ধানের উৎপাদন বাড়লেও এবং ঘাটতি না থাকলেও চালের দাম বেড়ে চলেছে। চাতাল মালিক, মিল মালিকদের দৌরাত্ম, পরিবহনে চাঁদাবাজি দূর করতে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। তাই চালের দাম নিয়ন্ত্রণেও নেই। কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি দেশের তেল, চিনি, ডাল’র বাজার। এসব ‘খাদ্য বিধাতা’দের তোয়াজ করেই সরকার চলছে। ওদের আবদার মেটাতে বাড়তি দাম নির্ধারণ করে, সাধারণ মানুষের পকেট কাটার আইনী সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আমদানি করা নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সরকারের আয়ও বাড়ে। এসময় ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে বাজার দাম কমাতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। অন্তত কিছু সময়ের জন্য ভ্যাট ট্যাক্স বাদ দিলেও ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩০ টাকা কমানো যেত।

ক’দিন আগে ডিজেল কেরসিনের দাম বাড়িয়ে মানুষের খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। আমদানি করা এলপিজি গ্যাসের দামও বেড়েই চলেছে। এসব ক্ষেত্রে দাম বাড়লে দ্রব্যমূল্যের চাপে আরও দুঃসহ অবস্থায় পড়বে মানুষ। টিসিবি’র ট্রাকের পেছনে শহরের মানুষের ভিড় বাড়বে। প্রয়োজনীয় পণ্য পাবে না। আর গ্রামের মানুষ নিরুপায় হয়ে পড়ছে।

নীতিনিষ্ঠ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এই অবস্থায় রাজনীতির নানা ডামাডোলের মধ্যেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে, মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে দেশব্যাপী সংগ্রামে আছে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে সুন্দরবনের পাশের উপজেলা কয়রাতেও ‘দাম কমাও- জান বাঁচাও’ স্লোগানে সোচ্চার ছিল দলের নেতাকর্মীরা। প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, পিরোজপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, ঝিনাইদহ, যশোর, ফরিদপুর, নওগাঁ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ঢাকা জেলা, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ এ সকাল থেকেই বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন সংগঠিত হয়। সর্বত্র অসংখ্য সাধারণ মানুষ এসব বিক্ষোভে যোগ দেয়।

এসব সমাবেশ থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আশু জরুরি ও সুদূঢ়প্রসারী, কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়। চাতাল মালিক, মিল মালিক, মজুদদারী, পরিবহনে চাঁদাবাজি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ, ভোজ্য তেল ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। টিসিবি’র কার্যক্রম বাড়ানো, দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালনা, সরকারি উদ্যোগে নিত্যপণ্যের বাজার স্টক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

জরুরি ভিত্তিতে রমজানকে সামনে রেখে বিত্তহীন মানুষকে স্বস্তি দিতে তিন কোটি মানুষের জন্য স্বল্প মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া ও নগদ সহায়তার দাবিও জানানো হয়।

এছাড়া রেশনিং, ন্যায্যমূল্যের দোকান ও গণবণ্টন ব্যবস্থা চালুর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভে দাবি জানানো হয় বাজার সিন্ডিকেট-অবৈধ ব্যবসায়ী চক্র ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত বাজার তদারকির।

উৎপাদক ও ক্রেতা সমবায় গড়ে তোলা এবং ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

এছাড়া, সরকারকে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা থেকে সরে এসে, এসব ক্ষেত্রে ভুলনীতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয় দূর করারও দাবি জানানো হয়। সারাদেশের বিক্ষোভ থেকে মানুষকে রাজপথে নেমে নিজের স্বার্থরক্ষায় সোচ্চার থাকারও আহ্বান জানানো হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঘোষিত ‘দাম কমাও, জান বাচাও’ দিবসে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, গণবিরোধী সরকার আর অবৈধ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ভোক্তা জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। লুটপাটের ধাক্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। ‘বিনা ভোটের সরকার’ দেশের মানুষকে আজ ভাতে মারতে চলেছে।

সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার অবিলম্বে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। বক্তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চলমান লুটপাটতন্ত্র ও দুঃশাসনের অবসান ঘটানোর লড়াইয়ে সামিল হতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকার পল্টন মোড়ে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান হীরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির নেতা ত্রিদিব সাহা, শংকর আচার্য, গোলাম রাব্বী খান। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আক্তার হোসেন।

একইদিন মোহাম্মদপুর টাউন হলে একই দাবিতে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটিও সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক আহসান হাবিব লাবলু, কোষাধ্যক্ষ মাহবুব আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর। সুত্র: একতা।


এ জাতীয় আরো খবর
Developed By ThemesDealer.Com