বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন

টঙ্ক আন্দোলন

রির্পোটারের নাম / ১০৩ বার
আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯

নিউজ ডেক্স : টঙ্ক আন্দোলন ব্রিটিশ-ভারতের সর্বশেষ গণআন্দোলন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার গারো পাহাড়ের পাদদেশে সুসং-দুর্গাপুর এলাকায় সংগঠিত হয়েছিল এ আন্দোলন। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই টঙ্ক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৬০ জন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
টঙ্ক আন্দোলনে যে সমস্ত লড়াকু বীর শহিদ হন, তাদের মধ্যে রাসমণি অন্যতম। তিনিই টঙ্ক আন্দোলনের প্রথম শহিদ। তিনি টঙ্ক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রীও ছিলেন। টঙ্ক আন্দোলনে মণি সিংহের পর যার নাম চলে আসে তিনি হলেন- রাসমণি, তারপর কুমুদিনী হাজং।

টঙ্ক মানে ধান কড়ারী খাজনা। ধান হোক বা না হোক জমিদারকে কড়ায় গণ্ডায় ধান দিতে হবে। মাঠে ফসল ফলা বা না ফলার ওপর টঙ্ক ব্যবস্থা নির্ভরশীল ছিল না। টঙ্ক জমির ওপর কৃষকদের কোনো স্বত্ব ছিল না। ময়মনসিংহ জেলার উত্তরে কলমাকান্দা, সুসং-দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট, নালিতাবাড়ি, শ্রীবর্দি প্রভৃতি থানাগুলোতে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। টঙ্কের হার প্রথমে এত বেশি ছিল না। কৃষকরা যখন টঙ্ক জমি নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসলেন, তখন প্রতি বছর ওই সব জমির হার নিলামে ডাকা হতো। ফলে হার ক্রমে বেড়ে যায়। যে কৃষক বেশি ধান দিতে কবুল করত তাদেরই অর্থাৎ পূর্বত বেশি ডাককারী কৃষকের নিকট থেকে জমি ছাড়িয়ে হস্তান্তর করা হতো। এইভাবে নিলাম ডাক বেড়ে গিয়ে ১৯৩৭ সাল থেকে হার সোয়া একরে পনের মণ পর্যন্ত উঠে যায়। যে হার অব্যাহত গতিতে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

বাংলার লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসের পাতায় ঐতিহাসিক যেসমস্ত আন্দোলন-সংগ্রাম রয়েছে, তার মধ্যে ‘টঙ্ক আন্দোলন’ অন্যতম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, ঐতিহাসিক এই আন্দোলন নিয়ে গবেষণামূলক কোনো বই আজ পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি। সেই অসম্পূর্ণতা দূর করার সামান্যতম লক্ষ্য নিয়ে ‘টঙ্ক আন্দোলন’ সংকলন গ্রন্থটি প্রকাশ করছে ‘বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনা’।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesWala.Com